0

ইনিও এক ভারতরত্ন, সর্বোপরি স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাও আবার একবার নয়, দু-দুবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ভদ্রলোক।
আর বৃদ্ধ বয়সে এই লোককেই কিনা ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করেছিলেন বাড়িওলা।

তিনি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, সরকার
দিতে চেয়েছিল মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা,
কিন্তু, তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পরিস্কার জানিয়ে দেন — “দেশের জন্য আত্মত্যাগ, টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতে পারবো না।”

অথচ সময়মতো বাড়িভাড়া না দেওয়ার কারনে ৯৪ বছরের এক বৃদ্ধকে ঘাড়ধাক্কা মেরে বের করে দিচ্ছেন বাড়িওলা। বৃদ্ধের সম্বল কেবলমাত্র একটা ছেঁড়া মাদুর,পুরানো চাদর,এ্যলুমিনিয়ামের একটা বাসন,একটা পেয়ালা,প্লাষ্টিকের একটা বালতি আর একটা মগ।

বাড়িওলার কাছে কাকুতি মিনতি করে,আরো কয়েকদিন সময় চেয়ে চলেছেন বৃদ্ধ।‌ প্রতিবেশীদের অনুরোধে কিছুটা নরম হলেন বাড়িওলার।‌ সময় দেওয়া হলো আরো পনেরো দিন।

রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক তরুণ সাংবাদিক লক্ষ্য করেন বিষয়টা। বিষয়টি খবর করতে হবে, এটা ভেবে বৃদ্ধের কয়েকটি ছবি, বাড়ীর ছবি তুলে নিলেন সাংবাদিক। মনে মনে ঠিক করে নিলেন হেডলাইন্স করবে খবরটা। হেডলাইনটা হবে –
” টাকার জন্য এক অসহায় বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন– পাষাণ হৃদয়ের এক বাড়িওলা।”

সাংবাদিক গিয়ে সম্পাদকে ঘটনাটি জানালেন। ছবিগুলো দেখে সম্পাদক অবাক!
সম্পাদক সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করেন–
“চোনো এই বৃদ্ধটিকে ??”

সাংবাদিক বললেন — “না।”

পরেরদিন সকালে নিউজ পেপারে ছবি সহ প্রকাশিত হলো — “অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করে চলেছেন,ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।”

কিন্তু তিনি ছিলেন নিরুপায়। তার ইনকামের আর কোনো উৎস ছিলো না। বন্ধুদের অনুরোধে কিছুটা বাধ্য হয়েই গ্রহণ করলেন সরকারি ভাতা।

কিন্তু,সেটাও সময়মতো হাতে পেতেন না।
দুই মাস ভাতা না আসার কারনে, বাকি রয়ে গেছে বাড়িভাড়া। কদিন ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া হয়নি,টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ওষুধ খাওয়া।

খবর দেখে পৌঁছে গেলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাওয়ের কাছে। সঙ্গে অনেক মন্ত্রী-সন্ত্রী, আমলা সহ হাজির বড়ো এক কাফেলা।
বাড়িওলার আশ্চর্য, কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন না। পরে তিনি জানতে পারলেন, ইনি হলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিলেন বাড়িওলার।
বৃদ্ধ নিশ্চুপ,বললেন – “ঠিক আছে, আপনার কোনো দোষ নেই। যেটা করা উচিত, আপনি সেটাই করেছেন।”

বৃদ্ধকে সরকারি আবাসন, বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব জানানো হয়।
তিনি বলেন -“আর কদিন তো রয়েছি। এভাবেই জীবনটা কেটে যাক না !”

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এভাবেই কাটিয়ে দিলেন, দুইবারের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলে নেওয়া মানুষটা।

যাবার সময় রেখে যান, ছেঁড়া মাদুর,পুরানো চাদর,থালা-বাটি, বালতি আর ফাটা মগ-টা।

১৯৯৭ সালে এই মহান মানুষটিকে ভারতরত্ন পুরস্কার দিয়ে,এই পুরস্কারের গৌরব বৃদ্ধি করা হয়।

মন্ত্রী, এমপি, এমএলএ- দের নাহয় বাদই রাখলাম, আজকের দিনে যৎসামান্য শিক্ষায় শিক্ষিত একজন পৌরসভার চেয়ারম্যান অথবা পঞ্চায়েত প্রধানের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি! আবার একজন সাধারণ পৌরপ্রতিনিধি কিংবা সাধারণ পঞ্চায়েত সদস্যদের সম্পত্তি কয়েক লক্ষ্য টাকা! ভাবা যায়!!
রাজনীতির সংজ্ঞাটাই যেন বদলে গেছে, জনগণের সেবা এখন এখন নাকি পেশা!

সাধারণ একজন নেতা, যিনি এই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সামাজিক ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস, ভৌগোলিক ইতিহাস, অর্থনৈতিক ইতিহাস কিছুই জানে না, অথচ এদের চারপাশে কত লোক! মিডিয়ার সামনে যে যত খারাপ কথা বলতে পারে, সে আজ ততো বড়ো নেতা, আর মিডিয়া সেটাই BEEAKING NEWS করে দেখায়, এতে নাকি মিডিয়ার TRP বাড়ে!

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এইসব নেতাদের প্রচুর অনুগামী, শুধু একবার নেতা হতে পারলেই কেল্লা ফতে, তিন পুরুষ আর ইনকাম করতে হবে না, কারণ রাজনীতিতো ইনকামের সবচেয়ে বড়ো উৎস।

কিন্তু, আমাদের দেশেই এমন বহু নেতা-মন্ত্রী ছিলেন, যাদের জীবনের শেষদিন পর্যন্ত অভাব-অনটন ছিলো নিত্যসঙ্গী।

এরা দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা সারাজীবন ভেবে গেছেন। নিজেকে নিয়ে ভাবনার মতো অবকাশ এদের ছিলো না।

আজকে যেই ভদ্রলোককে নিয়ে আলোচনা করছি তিনি ছিলেন একাধারে দেশের দুবারের প্রধানমন্ত্রী, একবারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সর্বোপরি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে Phd করা এবং ব্রিটিশ ভারতে বোম্বে সেন্ট্রাল কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং অবশ্যই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে সামনে থেকে লড়াই করা একজন মানুষ।
১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ঠা জুলাই অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে (বর্তমান পাকিস্তানে) এনার জন্ম এবং ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই জানুয়ারি ৯৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয়।

এই মহান মানুষটির নাম হলো গুলজারিলাল নন্দ, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
Guljarilal Nanda – Ex Prime minister of India. 
#Collected from FB

Krk Asked question February 13, 2022